লক্ষ্মীপুরে ভয়াবহ নদীভাঙন
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলা মেঘনা নদীর চরম ও ভয়াবহ ভাঙনের শিকার। ১৯৭০-৭১ সালে মেঘনার ভাঙন শুরুর পর থেকে একের পর এক এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমিসহ ১৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙনে এ দুই উপজেলার ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধের প্রায় পুরোটাই নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে এই দুই উপজেলার লাখ লাখ লোকের জীবন বিপন্ন হয়েছে। গত দুই বছরে বর্ষায় নদীভাঙন এতটাই তীব্র ও চরম আকার ধারণ করে যে, ৭৫ বর্গকিলোমিটার বিশাল এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২ বছরের মধ্যে মেঘনার উত্তর সীমানা রামগতি ও কমলনগর অতিক্রম করে হয়তো লক্ষ্মীপুরে গিয়ে ঠেকবে। ভাঙনের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রামগতি উপজেলা কমপ্লেক্সসহ উপজেলার সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেঘনার মাত্র ৪০০-৫০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গড়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম আশ্রয়ণ প্রকল্প চর গজারিয়ার অনেকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলার অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে উপজেলা দুটিকে রক্ষার জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন থেকে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে স্থানীয় জনগণ।
-ফয়সল হাসান |